যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত

যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ কোরিয়া একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ব্রিটিশ সরকার বলছে, এ চুক্তির ফলে যুক্তরাজ্যে হাজার হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং দেশটির অর্থনীতিতে অন্তত কয়েক বিলিয়ন পাউন্ড যুক্ত হবে।

যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ কোরিয়া একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ব্রিটিশ সরকার বলছে, এ চুক্তির ফলে যুক্তরাজ্যে হাজার হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং দেশটির অর্থনীতিতে অন্তত কয়েক বিলিয়ন পাউন্ড যুক্ত হবে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওষুধ, গাড়ি উৎপাদন, অ্যালকোহল ও আর্থিক সেবা খাত এ চুক্তি থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।

নতুন চুক্তির আওতায় দুই দেশের মধ্যে ৯৮ শতাংশ বাণিজ্য শুল্কমুক্ত থাকবে। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদ্যমান চুক্তির সমতূল্য শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। ব্রেক্সিটের পর দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য যুক্তরাজ্য সাময়িকভাবে যে শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রেখেছিল, সেটিই এখন স্থায়ী রূপ পাচ্ছে। আগের চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা ছিল। নতুন চুক্তির ফলে শুল্ক বাড়ার ঝুঁকি থেকে যুক্তরাজ্যের প্রায় ২০০ কোটি পাউন্ডের রফতানি সুরক্ষিত থাকবে।

লন্ডনে স্যামসাংয়ের ফ্ল্যাগশিপ স্টোরে সোমবার রাতে চুক্তির ঘোষণা দেন যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী ক্রিস ব্রায়ান্ট। তার সঙ্গে ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ চুক্তিকে ‘ব্রিটিশ ব্যবসার জন্য বড় জয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এ চুক্তি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আরো সহজ করবে। এতে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং দেশজুড়ে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি বাড়বে।’

ক্রিস ব্রায়ান্ট বলেন, ‘এটি যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতে “‍দৃঢ় সুরক্ষা” নিশ্চিত করবে।’

দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ২৫তম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার। দেশটির ব্যবসা ও বাণিজ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত আগের ১২ মাসে যুক্তরাজ্যের মোট বাণিজ্যের দশমিক ৮ শতাংশ ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে। একই সময়ে যুক্তরাজ্য থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় রফতানি কমেছে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। আর দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যুক্তরাজ্যে রফতানি কমেছে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বলেন, ‘দুই দেশের অর্থনীতি পরস্পরের পরিপূরক। এ চুক্তির মূল লক্ষ্য শুল্ক-বহির্ভূত বাধা কমানো, পণ্যের উৎসসংক্রান্ত নিয়ম সহজ করা এবং ডিজিটাল ও বিনিয়োগ সুরক্ষা জোরদার করা। যুক্তরাজ্য ইউরোপে দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য প্রবেশদ্বার হতে পারে। একইভাবে এশিয়ায় ব্রিটিশ কোম্পানির জন্য দক্ষিণ কোরিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হতে পারে।

আরও